"মায়ের আশীর্বাদে, সবার সহযোগিতায়"
পৌরাণিক ঐতিহ্য
দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয় — এটি বাংলার সংস্কৃতি, ঐক্য ও মানবতার এক অনন্য উৎসব।
শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। শরৎকালে দেবী দুর্গা মর্ত্যে তাঁর পিতৃগৃহে সন্তানদের নিয়ে আগমন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। পুরাণ অনুসারে, মহিষাসুর নামক এক অসুর দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য দখল করেছিল, আর তাকে বধ করার জন্যই ত্রিদেব ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তি থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়। দশ হাতে দশ অস্ত্র নিয়ে তিনি মহিষাসুরকে বধ করেন এবং সৃষ্টিকে রক্ষা করেন — এই কাহিনি থেকেই দুর্গাপূজার সূচনা।
আমাদের মণ্ডপে দুর্গাপূজার পাশাপাশি দেবী মঙ্গলচণ্ডীরও বিশেষ আরাধনা করা হয়, যিনি মঙ্গল ও কল্যাণের দেবী রূপে পূজিত। দুর্গাপূজায় দেবী দুর্গার সাথে তাঁর চার সন্তান — গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী — এবং সিংহ ও মহিষাসুরের প্রতিমাও একত্রে পূজিত হন। নিচে প্রতিটি দেব-দেবীর বিস্তারিত পরিচিতি দেওয়া হলো।
দশভুজা দেবী দুর্গা শক্তি, সাহস ও অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। তিনি মহিষাসুর নামক অসুরকে বধ করে সৃষ্টিকে রক্ষা করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। শরৎকালে তাঁর আগমন ও পূজাকে বলা হয় শারদীয় দুর্গোৎসব। তাঁর বাহন সিংহ শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
মঙ্গলচণ্ডী দেবী গৃহস্থের কল্যাণ, সন্তানের মঙ্গল ও সংসারের সুখ-সমৃদ্ধির দেবী হিসেবে পূজিত হন। বাংলার লোকসংস্কৃতিতে তাঁর মাহাত্ম্য বিশেষভাবে প্রচলিত, এবং আমাদের সংগঠনের নামকরণও তাঁরই আশীর্বাদকে স্মরণ করে করা হয়েছে।
দেবী দুর্গার দুই পুত্র গণেশ বিঘ্ননাশক ও বুদ্ধির দেবতা, আর কার্তিক শৌর্য-বীর্যের দেবতা হিসেবে পরিচিত। যেকোনো শুভ কাজের শুরুতে গণেশের পূজা করার রীতি প্রচলিত। কার্তিক দেবসেনাপতি হিসেবেও পরিচিত।
দেবী দুর্গার দুই কন্যা লক্ষ্মী ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী, এবং সরস্বতী বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী। দুর্গাপূজার মণ্ডপে তাঁদের উপস্থিতি পরিবার ও সমাজের সার্বিক কল্যাণের প্রতীক বহন করে।
দেবীর বোধন ও আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। মণ্ডপে দেবীকে আবাহন করা হয়।
কলাবউ স্নান ও মহাসপ্তমী পূজার মাধ্যমে দেবীর পূর্ণাঙ্গ আরাধনা শুরু হয়।
মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা এই দিনের প্রধান আকর্ষণ — দেবী দুর্গার চণ্ডীরূপে অসুর বধের মুহূর্তকে স্মরণ করা হয়।
মহানবমী পূজা ও হোমের মাধ্যমে দেবীর প্রতি চূড়ান্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিজয়া দশমীতে দেবীকে সিঁদুর দান ও বরণের পর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে — বিজয়ের আনন্দে সকলে মেতে ওঠেন।